অল্প সময়ে সুস্বাদু ডিম বিরিয়ানি কিংবা আলু বিরিয়ানি বানানোর সহজ উপায় শিখেনিন
অল্প সময়ে সুস্বাদু ডিম বিরিয়ানি। বিরিয়ানি একটি জনপ্রিয় এবং সুস্বাদু খাবার। তবে অনেকে বাড়িতে বিরিয়ানি বানাতে চায় কিন্তু বিরিয়ানি বানানো কে খুব জটিল মনে করে। তবে এই আর্টিকেল এ আমরা সহজ ভাবে সুস্বাদু ডিম বিরিয়ানি বনানোর উপায় এবং পদ্ধতি ব্যাখা করে দেবো যাতে আপনারা খুব অল্প সময়ে এবং কম খরচে সুস্বাদু বিরিয়ানি বানাতে পারবেন। তবে আপনারা যে পরিমাণ বিরিয়ানি বানাবেন সেই হিসেবে উপকরণ গুলো ব্যবহার করবেন।
অল্প সময়ে সুস্বাদু ডিম বিরিয়ানি বানানোর উপকরণ :
১) বিরিয়ানির চাল (বাসমতি)
২) ডিম,
৩) পেঁয়াজ,
৪) বড়ো সাইজের আলু,
৫)গোলাপ জল
৬) কেওড়া জল
৭) মিঠা আতর,
৮) রাইস ফ্লেবার
৯) দুধ
১০) বিরিয়ানি মসলা
১১) আপনারা চাইলে ফুড কালার ও দিতে পারেন সুন্দর কালার এর জন্য ।
১২) গোটা গরম মসলা
এই সব জিনিস আপনারা খুব সহজেই মুদিখানার যেকোনো দোকানে পেয়ে যাবেন।
অল্প সময়ে সুস্বাদু ডিম বিরিয়ানি বানানোর পদ্ধতি
স্টেপ ১ :- যতটা পরিমাণ বিরিয়ানির বানাবেন সেই পরিমাণে চাল নিয়ে ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখতে হবে। এতে চালটি তাড়াতাড়ি সেদ্ধ হবে।
স্টেপ ২ :- চাল ভিজে গেলে উনুনে হাঁড়িতে জল ভালো করে গরম করতে হবে। তারপর স্বাদ অনুযায়ী লবণ দিতে হবে, গোটা গরম মসলা, লবঙ্গ এবং এলাচ দিয়ে দিতে হবে সেই ফুটন্ত জলে। তারপর চালটা হালকা হাতে ধুয়ে নিতে হবে হালকা হাতে না ধুলে চাল ভেঙে যেতে পারে। এরপর হাঁড়িতে চালটা দিয়ে দিতে হবে। ভাত টা আধা সেদ্ধ করে ঝাঁকাতে রেখে জল ভালো করে ঝরিয়ে নিতে হবে কারণ বিরিয়ানিতে আবার ভাব দেওয়ার সময় চালটা সেদ্ধ হবে। ভাত টা বেশি সেদ্ধ করলে আবার যখন ভাব দিতে বসাবেন তখন ভাত গোলে যাবে।
স্টেপ ৩ :- পেঁয়াজ কুচি কুচি করে কেটে নিতে হবে এবং কিছুটা কুচি পেঁয়াজ রেখে দিয়ে বেরেস্তার জন্য বাকি পেঁয়াজ ছাকা তেলে ভেজে নিতে হবে তাহলেই রেডি আমাদের বেরেস্তা। আর যে কুচি পেঁয়াজ গুলো রাখা হয়েছে সেগুলো পরে বিরিয়ানিতে লাগবে মসলা তৈরির জন্য।

স্টেপ ৪ :- এবার আলু ছিলে এবং একটু বড় সাইজে কেটে নিতে হবে আর সেই তেলে ভেজে উঠিয়ে নিতে হবে।
স্টেপ ৫ :- এখন আবার সেই তেলে যে পেঁয়াজ কুচি গুলো রাখা হয়েছিল সেগুলো ভেজে নিতে হবে এবং আদা ও রসুন বাটা দিয়ে আর একবার ভেজে নিতে হবে। আপনারা বিরিয়ানিতে কালার চাইলে অল্প পরিমাণে ফুড কালার দিতে পারেন, এবার বিরিয়ানি মসলা দিতে হবে এই সব কিছু দিয়ে আবার হালকা করে ভেজে নিতে হবে। এরপরে অল্প পরিমাণে জল দিয়ে মসলাটা ভালো করে ফুটিয়ে নিতে হবে তবে সম্পূর্ণ জল শুকাবেন না। মোসলাটা যেনো খুব শুকনো না হয়। মসলা থেকে সব জল শুকিয়ে নিলে বিরিয়ানি টা ভালো হবে না।
স্টেপ ৬ :- এবার এই সবকিছু করা হয় গেলে একটা ছোটো বাটিতে অধা বাটির একটু বেশি দুধ নিতে হবে সেই দুধে তিন ছিপি গোলাপ জল, তিন ছিপি কেওড়া জল,৫-৬ ফোঁটা রাইস ফ্লেবার, ৪-৫ ফোঁটা মিঠা আতর দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে (তবে মিঠা আতর বা বিরিয়ানির গন্ধ অনেকের পছন্দ হয়না, আপনার ও যদি গন্ধটা পছন্দ না হয় তাহলে আপনারা ২-৩ ফোঁটা দিতে পারেন )।
স্টেপ ৭ :- আমাদের সুস্বাদু বিরিয়ানির সব জিনিস জোগাড় হয়ে গেছে।
১) এখন আমরা প্রথমে একটা প্রেসার কুকার নিবো এবং
২) তৈরি করা মশলার অর্ধেক মসলা প্রেসার কুকার এ দিয়ে দিবো এ এবং পুরো প্রেসার কুকারের তোলে দিয়ে দিবো এবং ভেজে রাখা বেরেস্তা এর কিছুটা দিয়ে দিতে হবে।
৩) এবার ভেজে রাখা আলু গুলোর কিছুটা দিয়ে দেবো।
৪) এবার বিরিয়ানির ভাত দিয়ে ঢেকে দিবো।
৫) এখন আমরা বাটিতে রাখা দুধ এর মিশ্রণটা কিছুটা একটা চামুচে করে নিয়ে অল্প অল্প করে নিয়ে পুরো ভাত টায় ছড়িয়ে দিবো উপর থেকে।
৬) এর পর আবার কিছুটা ভাজা মশলা রেখে বাকি ভাজা মশলাটা দিয়ে দিবো , বেরেস্তাটা দিয়ে এবার আবার বেচে থাকা ভাজা আলুগুলো সব দিয়ে দিবো, আবার ভাত দিয়ে ভালো করে ঢেকে দিবো এবং বেচে থাকা দুধের মিশ্রণটা সম্পূর্ণ দিয়ে দিবো ভাতে উপর থেকে ছড়িয়ে।
৭) এবার বেচে থাকা সম্পূর্ণ মসলা টা আর বেরেস্তা টা দিয়ে দিবো ভাত আর উপর চড়িয়ে এবং প্রেসার কুকার এর ঢাকনা টা দিয়ে মুখটা বন্ধ করে নিবো।
স্টেপ ৮ :- এবার শেষে মিডিয়াম আচে প্রেসার কুকার টা বসিয়ে নিবো ১০ মিনিট এর জন্য। ১০ মিনিট পরে গ্যাস বন্ধ করে নামিয়ে নিলেই খাওয়ার জন্য তৈরি আমাদের সুস্বাদু বিরিয়ানি এবং আপনারা দুটো ডিম সেদ্ধ করে ছিলে বিরিয়ানিতে দিয়ে দিলেই হয়ে যাবে এগ বিরিয়ানি।

