“ভারতের ১৪ বছরের প্রতিভাবান স্ক্র্যাবল খেলোয়াড় মাধব গোপাল কামাথ মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত ২০২৫ সালের বিশ্ব যুব স্ক্র্যাবল চ্যাম্পিয়নশিপ (WYSC) জিতে নতুন ইতিহাস গড়েছেন। এই জয়ের মাধ্যমে তিনি প্রথম ভারতীয় হিসেবে এই মর্যাদাপূর্ণ খেতাব জিতলেন, যা শুধু তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং বিশ্ব মঞ্চে ভারতের মানসিক ক্রীড়ার উপস্থিতিকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।
১৮টি দেশ থেকে আসা ২১৮ জন প্রতিযোগীর সঙ্গে লড়াই করে মাধব ২৪ রাউন্ডে ২১টি জয় অর্জন করেছেন। প্রতিটি ম্যাচে তিনি দেখিয়েছেন অসাধারণ দক্ষতা, কৌশলী খেলা আর চাপের মধ্যে ঠাণ্ডা মাথায় খেলার ক্ষমতা। উপান্ত্য রাউন্ডেই তার জয় নিশ্চিত হয়, আর সেই সঙ্গে ভারতের ঘরে আসে প্রথম বিশ্ব যুব স্ক্র্যাবল শিরোপা মাত্র ১৪ বছর বয়সে মাধব গোপাল কামাথ ইতিহাস গড়লেন।
একটি ঐতিহাসিক জয় এবং উদীয়মান তারকা
মাত্র ১৪ বছর বয়সে একের পর এক রেকর্ড গড়ে চলেছেন ভারতের তরুণ স্ক্র্যাবল প্রতিভা মাধব গোপাল কামাথ। সব বয়সের খেলোয়াড়দের মধ্যে বর্তমানে তিনি বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের ৮ নম্বরে আছেন। এ বছর মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত ভারতের ২৫তম জাতীয় স্ক্র্যাবল চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে তিনি হয়েছেন দেশের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ জাতীয় চ্যাম্পিয়ন।
ছয় বছর বয়সে স্ক্র্যাবল হাতে নেওয়া মাধবের খেলার প্রতি নিষ্ঠাই তাকে এত দ্রুত বিশ্বসেরাদের কাতারে নিয়ে এসেছে। মুম্বাইয়ের প্রশিক্ষক নীতা ভাটিয়ার তত্ত্বাবধানে এবং এসার ফাউন্ডেশন ও স্ক্র্যাবল অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার সহায়তায় তিনি ভারতের ১২ জন প্রতিভাবান তরুণের দলে ছিলেন, যারা এবারের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।
শুধু মাধবই নন, ভারতের আরও এক উদীয়মান তারকা আলো কেড়েছেন—বেঙ্গালুরুর ১৫ বছরের সুয়াশ মঞ্চালি। গত বছর বিশ্ব যুব স্ক্র্যাবল চ্যাম্পিয়নশিপে রানার্স-আপ হওয়ার পর এ বছরও তিনি দারুণ খেলেছেন এবং ১৭টি জয়ের মাধ্যমে পঞ্চম স্থান অর্জন করেছেন।
মাধব ও সুয়াশের এই ধারাবাহিক সাফল্য দেখিয়ে দিচ্ছে, স্ক্র্যাবল আর শুধু দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বা পশ্চিমা দেশের আধিপত্যে সীমাবদ্ধ নয়—ভারতও দ্রুত নিজের জায়গা তৈরি করছে বিশ্ব মানসিক ক্রীড়ার অঙ্গনে।
শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সমর্থন এবং সমর্থন
ভারতে প্রতিযোগিতামূলক স্ক্র্যাবলের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। তৃণমূল পর্যায়ে আয়োজিত টুর্নামেন্ট আর শক্তিশালী যুব সার্কিট এই আগ্রহকে আরও জোরদার করেছে। স্ক্র্যাবল অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার সভাপতি হরবিন্দরজিৎ ভাটিয়া মাধবের জয়কে বর্ণনা করেছেন “একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক এবং পুরো সম্প্রদায়ের জন্য গর্বের মুহূর্ত” হিসেবে। তাঁর মতে, এই সাফল্য বিশ্ব স্ক্র্যাবল মঞ্চে ভারতের বাড়তে থাকা মর্যাদাকে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
ভারতীয় দলের অন্যতম প্রধান সমর্থক এসার ফাউন্ডেশনও মাধবের জয়ে গর্ব প্রকাশ করেছে। তাদের বিশ্বাস, খেলাধুলার শক্তি শুধু শরীর নয়, মনেরও বিকাশ ঘটায় এবং মানুষকে একত্রিত করে। তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ভারতের তরুণ প্রতিভাদের আরও লালন-পালন ও সুযোগ করে দেওয়ার, যাতে তারা বিশ্বব্যাপী সেরাদের কাতারে নিজেদের জায়গা করে নিতে পারে।
স্পনসর, প্রশিক্ষক আর পরামর্শদাতাদের এই সম্মিলিত সহায়তাই তরুণ স্ক্র্যাবল খেলোয়াড়দের জন্য এমন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করছে, যেখানে তারা নিজেদের দক্ষতা শানিয়ে নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারছে।
https://x.com/ScrabbleIndia/status/1962593069896999022
ভারতীয়দের চিন্তার যৌক্তিক দিক
মাধব গোপাল কামাথের এই সাফল্য শুধু তাঁর ব্যক্তিগত জয় নয়, বরং বৈশ্বিক বৌদ্ধিক মঞ্চে ভারতের সম্ভাবনারও প্রতীক। এটি দেখিয়ে দেয় যে তরুণ প্রজন্ম বিকাশ লাভ করতে পারে এমন অনেক বিকল্প ক্ষেত্র রয়েছে, যা প্রচলিত পড়াশোনার সীমা ছাড়িয়ে যায়। কৌশলনির্ভর মানসিক খেলা যেমন স্ক্র্যাবল, শুধু বিনোদন নয়—এগুলো সৃজনশীলতা, ধৈর্য আর জ্ঞানীয় দক্ষতা গড়ে তোলে।
দ্য লজিক্যাল ইন্ডিয়ান এই ঐতিহাসিক জয়কে দেখছে পরিবার, শিক্ষক এবং নীতিনির্ধারকদের জন্য এক বড় শিক্ষা হিসেবে। এটি যেন এক অনুপ্রেরণামূলক বার্তা—পাঠ্যপুস্তকের বাইরে থাকা নানা প্রতিভাকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে লালন করতে হবে, কারণ সেখান থেকেই উঠে আসতে পারে আগামী দিনের সেরা তারকারা।

